কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ ও এর প্রতিকার

By Unknown মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম জয়ললিতা গতকাল সোমবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে মারা গেছেন। অ্যাপোলো হাসপাতালে ৭৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে হার মেনে নেন ৬৭ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

এখন প্রশ্ন হলো-কী এই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট? যার কারণে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হয় আমাদের? কীভাবেই বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট প্রতিরোধ করা যায়? সাধারণত হৃদরোগ হিসাবে দুটি রোগের নাম প্রায়শই শোনা যায়।
 একটি হল- হার্ট অ্যাটাক, আরেকটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। অনেকে প্রায়শই এই দু'টি রোগকে গুলিয়ে ফেলে একটি রোগই ভাবেন। কিন্তু এই দুটি রোগ একেবারেই আলাদা দুটি রোগ, যাদের উপসর্গও ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু কোথায় আলাদা?

হার্ট অ্যাটাক:

হার্ট যখন অপর্যাপ্ত এবং অনিয়মিতভাবে রক্ত সঞ্চালন করে তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়। করনারি ধ্বমনীতে বাধা বা বল্কেজ তৈরি হলে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। সাধারণত রক্ত জমাট বাঁধার জন্য এ রকমটা ঘটে থাকে। যদি এই ধরনের জমাট বাঁধা রক্তকে সরানো না যায় তাহলেই বিপদ ঘটে।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট:

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে হৃদস্পন্দন থেমে যায়। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হলে স্পন্দন থামে না। এমন কি হৃত্পিণ্ডে রক্ত সংবহন বন্ধ হয়ে গেলেও স্পন্দন চলতেই থাকে। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট তখনই হয়, যখন আমাদের হৃদপিন্ড সারা শরীরে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়। এটাকে তাই সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টও বলা হয়। এর ফলে অনেক মানুষ বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টের সমস্যা, মাথা ঘোরা প্রভৃতি সমস্যা অনুভব করেন।

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ:

অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণে অনেক সময়ে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এছাড়া করোনারি আর্টারির রোগ, হার্ট অ্যাটাক, অতিরিক্ত শারীরিক ধকল, অক্সিজেনের অভাব, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত শারীরিক কসরত, এছাড়াও আরও অনেক কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং নিয়মহীন জীবনযাপনের জন্যেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়।

কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় এই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট?

১) নিয়মিত চিকিৎসককে দিয়ে হৃদপিণ্ড পরীক্ষা করাতে হবে।

২) যদি আপনার পরিবারের অনেকেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের স্বীকার হয়ে থাকেন, তাহলে আরও বেশি খেয়াল রাখুন।

৩) স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

৪) সঠিক ডায়েট মেনে খাবার খান।

৫) নিয়মিত শরীর চর্চা করুন। তবে অতিরিক্ত নয়।

৬) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

৭) ধূমপান করবেন না।

আপনি কিংবা আপনার কোন প্রিয়জনকে যাতে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে না হয়, তাই রোগটি প্রতিরোধের উপায় আগে থেকেই জেনে রাখুন। নিয়মগুলো মেনে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই আপনাকে রোগটি থেকে মুক্তি দিবে।

তথ্যসূত্র: জিনিউজ।
Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.