নিরাপত্তা ও বড় বিপর্যয় এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার পরামর্শ

By Unknown বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৬
রূপপুরে নির্মীয়মাণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এক বছর ব্যাপ্তির সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারমানণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নেটওয়ার্কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা থাকতে হবে যেন গ্রিড ব্ল্যাক-আউটের মতো বড় বিপর্যয় এড়ানো যায়।

চলতি বছরের মার্চে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। পরবর্তীকালে সমীক্ষা প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয় অপরিবর্তিত রেখে ব্যয়ের আন্তঃখাত সমন্বয় করে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির অনুমোদন দেন। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ প্রকল্পে এক হাজার ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকার মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ৯২৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) অর্থায়ন ৮৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

প্রসঙ্গত, সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। স্বল্প ব্যয়ে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে পাবনার রূপপুরে ১২০০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রাশিয়া রোসাটমের সঙ্গে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রকৌশলী আমাদের সময়কে বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত আমাদের দেশের জন্য নতুন একটি বিষয়। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে জাতীয় গ্রিড সংযুক্তের আগে অনেক কারিগরি বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, সব ধরনের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকবে।

সমীক্ষার প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সম্ভাব্য সমীক্ষার প্রতিবেদনে ৫টি কেস স্টাডি সম্পন্ন করা হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৫টি কেস স্টাডির মধ্যে ইকোনমিক ও কন্টিজেন্সি বিবেচনা করে সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণের সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে রূপপুর-গোপালগঞ্জ ১৬৫ কিলোমিটার এবং রূপপুর-বগুড়া ১০০ কিলোমিটার ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট টাওয়ারের আর্কিটেকচার সিঙ্গেল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। যাতে ভবিষ্যৎ ডাবল সার্কিট লাইনের পরিবর্তন করা যায়।

নির্মিতব্য রূপপুর-ধামরাই ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনটি ৪০০ কেভি লাইনের আর্কিটেকচারে নির্মাণ করে ২৩০ কেভিতে প্রাথমিকভাবে সংযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ৪০০ কেভিতে সংযোগের সুযোগ থাকে।

নির্মিতব্য রূপপুর নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যতে ৩য় ৪০০/২৩০ কেভি ৫২০ এমভিএ অটো ট্রান্সফরমার সংযোজনের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সিস্টেম ফ্রিকোয়েন্সির জন্য চার দফা সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্পিনিং রিজার্ভ রাখার লক্ষ্যে নতুন-নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, তিন স্টেজবিশিষ্ট আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সি স্কিম বাস্তবায়ন, উপযুক্ত লোড কন্ট্রোল স্কিম ও প্রয়োজনে লোডশেডিং বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ফ্রিকোয়েন্সি গভর্নর কন্ট্রোল মুডে পরিচালনার আওতায় আনা।

এ ছাড়া পাওয়ার সিস্টেম প্রটেকশন ডিভাইস ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে প্রধান এবং ব্যাকআপ প্রটেকশন সিস্টেম উপযুক্ত রিলে সিস্টেম বা স্কিম অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রাইমারি জোন প্রটেকশন বিবেচনা করা, বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় এবং নিকটস্থ গ্রিড উপকেন্দ্রগুলোর মধ্যে নিবিড় প্রাইমারি জোন প্রটেকশনের সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে।

সূত্র:dainikamadershomoy
Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.