যে অসুখ শীতে বাড়ে

By Unknown শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬
শীতের এই সময়ে কমবেশি অনেকেই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগে থাকে। তবে শিশু ও অধিক বয়স্ক ব্যক্তি বা প্রবীণরা এতে কষ্ট পায় বেশি।

কিছু অসুখবিসুখের প্রকোপও এ সময় বাড়ে। ভালো থাকতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কিছু অসুখের সম্পর্ক আছে। যেমন—শীতকালে বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণ বাড়ে, জলীয়বাষ্পের আর্দ্রতা কমে, তাপমাত্রা কমে আসে, ফলে কিছু অসুখের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রসম্পর্কিত অসুখগুলো।

ঠাণ্ডা-সর্দি-কাশি:

সর্দি-কাশি সারা বছরের অসুখ, কিন্তু বেশি দেখা দেয় শীতে। নাক দিয়ে পানি ঝরা, হাঁচি ও জ্বর জ্বর ভাব হতে পারে। সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, বিশেষত ইনফ্লুয়েঞ্জা ও প্যারাইনফ্লুয়েঞ্জা দিয়ে এই সময় সর্দি-কাশি বেশি হয়। সর্দি-কাশি সাধারণ অসুখ হলেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

কারণ শীতকালে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকেই নিউমোনিয়া হতে পারে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশু, আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্রের অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিসসহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বেশি বয়স্ক মানুষ। সাধারণ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে নিজেও ভালো থাকা যায়, অন্যকেও ভালো রাখা যায়।

সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদিতে আক্রান্ত হলে অন্যদের সঙ্গে, বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে মেলামেশায় সতর্কতা অবলম্বন করুন। হাঁচি দেওয়ার সময় বা নাকের পানি মুছতে রুমাল বা টিস্যু পেপার ব্যবহার করা উচিত। সর্দি-কাশি প্রতিরোধে লেবুর রস, তুলসীপাতার রস, আদা চা এবং মধু ভালো কাজ করে।

এসবের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে ভিটামিন সি। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সঙ্গে আদা চা, শরবত, ডাবের পানি, জুস, স্যুপ ইত্যাদি ভালো উপকারে আসে। জ্বরের মাত্রা বেশি হলে প্যারাসিটামল ও সর্দি-কাশির মাত্রা অতিরিক্ত হলে অ্যান্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস:

হাঁপানি বা অ্যাজমার নির্দিষ্ট কারণ বা বয়স নেই। যেকোনো বয়সীদের হাঁপানি হতে পারে। তবে শীতকালে বয়স্ক মানুষেরা অ্যাজমা বা হাঁপানির মতো রোগে ভোগে বেশি। কারণ বাতাসে

জলীয়বাষ্পের কমতি, ধুলোবালির বাড়তি উপস্থিতি এবং শীতের কারণে শ্বাসনালি শুকিয়ে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়। শুধু অ্যাজমা নয়, এ সময় অনেকে ক্রনিক ব্রংকাইটিসেও আক্রান্ত হন। অনেকের  বেশির ভাগ সময় শ্বাসকষ্ট থাকে।

 অ্যালার্জি, অ্যাজমা বা হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্ট—এ বিষয়গুলো একটি আরেকটির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ কারণে দেখা যায় অ্যালার্জির তীব্রতা বাড়লে অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্টও বেড়ে যায়। তাদের কিছুটা নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করা উচিত। এ-সংক্রান্ত রোগীদের চলাফেরা, ওঠাবসা, খাবারদাবার এককথায় জীবনযাত্রার সব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

ভালো থাকতে হলে শীতের তীব্রতা বা ঠাণ্ডা থেকে যথাসম্ভব বাঁচতে হবে। ধুলোবালি থেকে রক্ষায় মুখে মাস্ক ব্যবহার করলে ভালো। একই মাস্ক দিনের পর দিন ব্যবহার করবেন না। সম্ভব হলে

ডিসপোজেবল মাস্ক ব্যবহার করুন, যা একবার ব্যবহার করেই ফেলে দিতে হয়। তা না হলে নিয়মিত মাস্ক পরিষ্কার করুন। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন। মশার কয়েল বা সিগারেটের ধোঁয়া, স্প্রে, পোষা বিড়াল, কুকুর থেকে দূরে থাকুন।

 ফ্রিজের পানি পান করা পরিহার করুন। শিশু ও বয়স্কদের গরম পানি পান করা উচিত। সম্ভব হলে গোসলেও ব্যবহার করা উচিত। মোটা সুতি জামা বা গরম কাপড় পরিধান করুন। যেসব খাবারে অ্যালার্জি আছে তা এড়িয়ে চলুন অথবা যেসব কারণে অ্যালার্জি, অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পায় সেসব থেকে দূরে থাকুন।

 শাসকষ্ট বেশি হলে ইনহেলার ব্যবহার করা ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে নেবুলাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে, চেষ্টা করুন ইলেকট্রিক হিটার ব্যবহার করে ঘর গরম রাখার জন্য।

ত্বকের কিছু অসুখ:

শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে শুষে নেয় পানি। ফলে ত্বক রুক্ষ হয়। এই সময় ত্বকের অ্যালার্জি ও চর্মরোগ হতে পারে। যাদের পুরনো চর্মরোগ যেমন—সোরিয়াসিস, একজিমা ইত্যাদি আছে, তাদের সমস্যা এই সময় বেড়ে যেতে পারে। চুলকানিসহ আরো কিছু রোগও এ সময় বাড়ে। এসব সাধারণ অসুখ থেকে বাঁচতে কিছু নিয়ম মানা উচিত।

গোসলে যথাসম্ভব সাবান কম ব্যবহার করা ভালো। এ ছাড়া বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার ক্রিম, তেল, লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের পানি বাতাসে চলে যেতে পারে না। তাই ত্বক ভালো থাকে। পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখতে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া উচিত।

 ভিটামিন ‘এ’ বা বিটা ক্যারোটিন ত্বকের সুস্থতার জন্য জরুরি। নিয়মিত সবুজ শাকসবজি, গাজর, মিষ্টি আলু, কুমড়া, মাছ খেলে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি পূরণ হয়। এ ছাড়া ভিটামিন ‘বি’ কমপ্লেক্স ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

 এসব পাওয়া যায় ডিমের সাদা অংশ, ঢেঁকিছাঁটা চাল, কলিজা, দুধ, গাজর, টমেটো ইত্যাদিতে। ত্বক ফেটে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে ভিটামিন ‘সি’ ও ত্বকের বলিরেখা দূর করতে ভিটামিন ‘ই’ সেবন করা উচিত।

 এ ছাড়া ত্বক ভালো রাখতে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, সুষম খাদ্য গ্রহণ, প্রচুর পানি পান করা, হালকা ব্যায়াম করা উচিত।

বাত:

বিভিন্ন ধরনের বাত ব্যথা রয়েছে। ফাইব্রোসাইটিস, মাইওসাইটিস, নিউরাইটিস, গাউট, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস, স্পনডাইলোসিস এই রোগগুলো একটু বেশি বয়সে হয়। বাতের ব্যথা সারা বছরই কষ্ট দেয়, কিন্তু শীতের সময় এর কষ্ট বাড়ে।

যাদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাড়ের রোগ রয়েছে শীতকালে তাদের সমস্যা অনেক বেশি হয়। সাধারণত বাতের চিকিৎসায় দীর্ঘ মেয়াদে ব্যথানাশক সেবন করতে হয়।

 পাশাপাশি শীতের সময় বাতের যন্ত্রণা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত গরম সেঁক ও ফিজিওথেরাপি নেওয়া উচিত। চেষ্টা করা উচিত গরম কাপড় পরিধানের। শীত শরীরে যত কম লাগবে বাতের যন্ত্রণা তত কম হবে। যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা আছে তাদের ব্যথানাশক সেবনের বিষয়ে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

টনসিলের সমস্যা:

গলাব্যথা, স্বরভঙ্গসহ কণ্ঠনালির নানা সমস্যাসহ টনসিলের প্রদাহ বা টনসিলাইটিস শীতে বেশি হয়। এটা হতে পারে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দিয়ে। সাধারণত ভাইরাসজনিত টনসিলাইটিস বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের প্রয়োজন খুব একটা পড়ে না।  

এসব সমস্যা যাদের রয়েছে তারা লবণ মিশ্রিত হালকা গরম পানি দিয়ে গরগরা করলে আরাম পাবে। ঠাণ্ডা পানি পরিহার করে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে ও গলায় গরম কাপড় বা মাফলার জড়িয়ে রাখবে।

সেই সঙ্গে মাউথওয়াশ দিয়ে কুলি করলে ভালো থাকা যায়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল ও সর্দি-কাশি থাকলে অ্যান্টি-হিস্টামিন সেবন করা উচিত।

আরো কিছু পরামর্শ:

শীতকালে পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়ার প্রকোপ অন্য সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। এর অন্যতম কারণ হলো ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণুঘটিত, ভাইরাসজনিত, ছত্রাক বা ফাঙ্গাস জাতীয় প্রদাহ আক্রমণ করে।

এই সময় ডায়াবেটিক রোগীদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া (হঠাৎ সুগারের মাত্রা কমে যাওয়া) হতে পারে। এ সময় বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ঘটতে পারে। এ সময় ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি। কখনোই খালি পায়ে থাকা ঠিক নয়।

শীতের সময় চুলে খুশকির উপদ্রবও বেড়ে যায়। খুশকিমুক্ত থাকতে নিয়মিত শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

সূত্র:kalerkantho
Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.