৭৮ পয়েন্ট দিয়ে ‘অবাধে’ ঢুকছে মাদক

By Unknown বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬
মাদক পাচারের ক্ষেত্রে দেশের সীমান্তবর্তী ৩২ জেলাকে অরক্ষিত বলে মনে করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এর মধ্যে ১৭ জেলার ৭৮ পয়েন্ট দিয়ে প্রায় ‘অবাধে’ ঢুকছে ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক। এর বাইরে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আসছে ইয়াবার চালান।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অক্টোবর মাসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দেশে মাদকের সবচেয়ে বড় ‘বাজার’ ঢাকা। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ ভাগ ও শহুরে মানুষদের প্রায় ৫০ ভাগ ঢাকায় বসবাস করেন। এ কারণে এখানে বিভিন্ন ধরনের মাদকের বিস্তার বেশি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, সীমান্তের কিছু পয়েন্ট দিয়ে আসা মাদক দ্রব্য কয়েকটি রুট ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। সেই পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে মাদক পাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোর তথ্য পর্যালোচনায় ঢাকাসহ ২০টি জেলাকে মাদক প্রবণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপর জেলাগুলো হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেট, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, খুলনা, বরিশাল, সাতক্ষীরা ও যশোর।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, আফিম, মদ ও ইনজেকশনের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়- এমন মাদক আসে ভারতের সীমান্তবর্তী ১৭টি জেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। এর মধ্যে দেশের পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, দেবহাটা, ভোমরা, ইতিন্দা, কলারোয়া, কাকডাংগা ও পলাশপুর দিয়ে আসে ফেনসিডিল, হেরোইন ও আফিম। এছাড়া যশোরের বেনাপোল, পুটখালী, চৌগাছা, নারায়ণপুর, শার্শা, চুয়াডাঙ্গার কার্পাস ডাঙ্গা, দর্শনা, জীবননগর, মেহেরপুরের দরিয়াপুর, বুড়িপুতা, তেহাতা ও মুজিবনগর দিয়েও এ ধরনের মাদকদ্রব্য পাচার হয়ে আসে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি ‘ইনজেক্টিং ড্রাগস’ আসে রাজশাহীর মনিগ্রাম, বাঘা, চারঘাট, সারদা, ইউসুফপুর, কাজলা, বেলপুরিয়া, রাজশাহী শহর, হরিপুর, গোদাগাড়ি, নওগাঁর শিমুলতলী, চকমলিডাংগা পাড়া, পত্নীতলা, রাধানগর, হাটপাড়া, শীতলামঠ, ছলন্দর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, শাহবাজপুর, বিনোদপুর ও কানসাট এলাকা দিয়ে।

মাদক পাচারের এই রুটের মধ্যে রয়েছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ি, বিরামপুর, হিলি, হাকিমপুর, কমলাপুর, অক্ষরপুর ও বিরল। উত্তর সীমান্ত (ভারতের আসাম ও মেঘালয়) থেকে অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি মদ ও গাঁজা ঢুকে কুড়িগ্রামের রৌমারী, নাগেশ্বরী, শেরপুরের ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ি, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা দিয়ে।

পূর্ব সীমান্ত অঞ্চল (ত্রিপুরা ও মিজোরাম) দিয়ে আসে ফেনসিডিল, হেরোইন ও গাঁজা। এগুলো সিলেটের জকিগঞ্জ, চুনারুঘাট, মাধবপুর, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার করিমপুর, কসবা, আখাউড়া, সিনজারবিল, পাহাড়পুর, বিজয়নগর, কুমিল্লার জগন্নাথদিঘি, চৌদ্দগ্রাম, গুলপাশা, কালিকাপুর, জগন্নাথপুর, রাজাপুর, বুড়িচং, ব্রাক্ষণপাড়া, বিবির বাজার এবং ফেনীর ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম দিয়ে।

এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার ৩৬টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসে এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক ইয়াবা। এক্ষেত্রে নাফ নদীর ১৪ কিলোমিটার এলাকাকে ‘ক্রসিং পয়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবার পাচার রুটের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ, বর্মাপাড়া, নাজিরপাড়া, জালিয়াপাড়া, সাবরাং, নাইট্যংপাড়া, চৌধুরীপাড়া, কাটাখালী, উনসিপ্রাং, হোয়াইক্যংঘাট, হ্নীলা, জাদিমুরা, উকিলপাড়া, বোমপাড়া, মৌলভীপাড়া, শিলবনিয়াপাড়া, চকবাজার, অলিয়াবাদ, খানকারপাড়া, এক দুই আড়াই ও তিন নম্বর স্লুইচগেট, ফরায়েজীপাড়া, পুরাতন ট্রানজিটঘাট, কুলালপাড়া, নাইটংপাড়া, কায়ুকখালী খাল, দমদমিয়া, কেরুনতলী, ১৪ নম্বর জাহাজঘাট এবং উখিয়া উপজেলার পালংখালী, বালুখালী, ঘুমধুম, রেজুপাড়া, তমব্রু ও আশপাশের এলাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদীর জাদীরমুড়া পয়েন্ট থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত এলাকা দিয়েই মূলত নৌপথে ইয়াবা আসে। প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও জেলা পুলিশদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি প্রতিবেদনের একটি নমুনা পুলিশ ও র‍্যাবকেও পাঠানো হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোকবল কম হওয়ার কারণে তাদের অভিযানে সহায়তা করার জন্যও আলাদা নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া সীমান্ত এলাকায় যাদের চাকরির বয়স এক বছরের বেশি হয়েছে তাদের বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গে চোরাচালানীদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা এ বিষয়ে গোয়েন্দারা তথ্য সরবরাহ করছেন।

সূত্র:poriborton
Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.