দেশ স্বাধীনের আগে বাংলাদেশের ন্যায্য পাওনা না মিটিয়ে উল্টো পাকিস্তান ৭০০ কোটি টাকা পাওনা দাবির ঘটনায় দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। বিশেষ করে দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছরেও পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে পাঁচটি বহুল আলোচিত ও অকাট্য বিষয়ের মীমাংসার ব্যাপারে আগ্রহ না দেখিয়ে উল্টো এই অর্থ দাবির মধ্য দিয়ে এক ধরনের ঔদ্ধত্যই দেখিয়েছে। এর ফলে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ তো বটেই, এ-সংক্রান্ত আইনও ভঙ্গ করেছে দেশটি। অথচ বাংলাদেশের পাওনা ৩৪ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে না পাকিস্তান।
দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের এ পাওনা দাবিকে ‘বিরূপ আচরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নানান কারণে দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের অবস্থা খুবই নাজুক। বিশেষ করে সার্ক করতে না পারার জন্য তারা বাংলাদেষকে দুষছে। এ নিয়ে জনগণের কাছে নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে দেশটি। এখন দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তারা বাংলাদেশের কাছে পাওনা দাবির নামে হাস্যকর বিষয়ের অবতারণা করেছে। তবে বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে শক্তভাবে জবাব দিতে হবে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের কথা না ভেবে পাকিস্তানকে পাকিস্তানের ভাষায় জবাব দিতে হবে। বিশ্লেষকরা এমনও বলেছেন, বাংলাদেশের উচিত হবে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে পাকিস্তানকে শক্তভাবে ধরা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা। এই অমীমাংসিত পাঁচটি বিষয় হলো—১৯৭১-এর গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনা, ১৯৫ পাকিস্তান সেনা যুদ্ধাপরাধীর বিচার, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নেওয়া, একাত্তরপূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য হিস্যা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ক্ষয়ক্ষতি আদায়।
পাশাপাশি অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসায় পাকিস্তানের অনাগ্রহ ও ঔদ্ধত্যের জন্য বিশ্লেষকরা দেশের সরকারগুলোকেও দুষছেন। তাদের মতে, দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সরকার এসব বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে নমনীয়তার পরিচয় দিয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের নামে ছাড় দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের ঔদ্ধত্য বেড়েছে। সুতরাং পাকিস্তানের সঙ্গে এসব বিষয়ে বোঝাপড়ার এখনই মোক্ষম সময় বলেও মনে করেন তারা।
দ্য স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানকে (এসবিপি) উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন গত মঙ্গলবার এক খবরে জানিয়েছে, একাত্তরের আগে বাংলাদেশের কাছে পাওনা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি) দাবি করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অফিস, ঋণ, আগাম সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে যে টাকা পাওনা ছিল, ২০১৬ সালের জুন নাগাদ ভ্যালুয়েশন করে তা ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে (৬০০ কোটি ৯২ লাখ টাকা) দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এখন পাকিস্তান এই টাকা দাবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ১৯৪৭-এর দেশভাগের আগের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বিবেচনায় নিয়ে দিল্লির কাছেও ৬ বিলিয়ন রুপি পাওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের অর্থ দাবিকে ‘অবাস্তব ও ভিত্তিহীন’ বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা পাকিস্তানের কাছে আমাদের পাওনা দাবি করেছি, সে কারণে ওটাকে ব্যাহত করার জন্য তারা উল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, যেটা অবাস্তব, ভিত্তিহীন। ওরা আমাদের কাছ থেকে টাকা পাবে কোত্থেকে? পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ লোককে হত্যা করেছে। আমাদের প্রাপ্য আছে পাকিস্তানে, কারণ তারা আমাদের শোষণ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের আগের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য রফতানি করে আয় করতাম। বিশেষ করে পাট থেকে ও আদমজী পাটকল থেকে আসা টাকাগুলো সব পাকিস্তান নিয়ে গেছে। বরং পাকিস্তানে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো তার ম্যাক্সিমামটা হতো বাংলাদেশের পণ্য থেকে। সেই হিসেবে আমরা তাদের (পাকিস্তান) কাছে টাকা পাব। তবে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ কবে, কীভাবে পাওনা দাবি করেছিল সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির কলেন, এ ধরনের দাবি ‘কথার কথা’ ও বাংলাদেশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘পাল্টা কথা’ ছাড়া কিছুই নয়। এতে বিস্মিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ বর্তমানে পাকিস্তান নৈতিক অবস্থানে খুবই দুর্বল। সার্ক করতে পারেনি। সন্ত্রাসের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা। এখন তারা তাদের দুর্বলতা ঢাকার জন্য এমনটি করছে। কিন্তু পাকিস্তানকে মনে করে দেওয়া উচিত, একাত্তরে পাকিস্তান এ দেশে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যে অপরাধ করেছে, সেই দায়টা যত দ্রুত স্বীকার করবে ও ক্ষমা চাইবে, তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা ভালো হবে।
‘তবে পাকিস্তানের বিভিন্ন ঔদ্ধত্যের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তাদের একাত্তরের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। সামষ্টিকভাবে সেটা চাইলেই ভালো’—বলেও মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসের কারণে পাকিস্তানকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। এর মধ্যে সার্ক করতে না পারার জন্য তারা বাংলাদেশকে দুষছে। সেই রাগ থেকে, সে দেশের জনগণের কাছে সরকার তাদের বিতর্কিত ভাবমূর্তি রক্ষা করতে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এখন বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে চাইছে। আর সে জন্যই এমন অবান্তর দাবির বিষয় ভাবছে।
‘কিন্তু কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও সম্পর্কের কথা ভেবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের আর কত ঔদ্ধত্য প্রশ্রয় দেবে—তা ভাবার সময় এসেছে। এ দাবির ব্যাপারে খুব শক্তভাবে জবাব দিতে হবে। বাংলাদেশের যে পাওনা সে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, পাকিস্তান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, পরে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে কী ষড়যন্ত্র করেছে এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থি সন্ত্রাস লালনে তার ভূমিকা কী—এসব বিষয়ে শক্তভাবে আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। শিষ্টাচারের আর দরকার নেই। পাকিস্তানকে এখন থেকে পাকিস্তানের ভাষায় জবাব দিতে হবে।
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের পাওনা দাবির ঘটনা গতকাল দেশজুড়ে ছিল আলোচিত। অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে উঠে এসেছে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনার বিষয়টি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বণ্টনের বিষয়টির এত দিনেও সুরাহা হয়নি। উত্তরসূরি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সে সম্পদের আইনি অংশীদার। ১৯৭১ সালের আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ ওই সম্পদের ৫৬ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় ৫৪ শতাংশ এবং সমতার নীতি অনুসরণ করলে ৫০ শতাংশের দাবিদার বাংলাদেশ। এ ছাড়া ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য আসে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিদেশি মুদ্রাগুলো তৎকালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকার শাখায় রক্ষিত ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আত্মসাতের উদ্দেশে বৈদেশিক মুদ্রাগুলো স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের লাহোর শাখায় স্থানান্তর করা হয়। অর্থাৎ একাত্তরের আগে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের প্রাপ্য প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় জাতিসংঘের হিসেবে ১ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা বা ১২ লাখ ডলার। সব মিলে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের মোট পাওনা ৩৪ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তানকে পাওনা পরিশোধ করতে বলেছিল। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা করে। কিন্তু ওই অর্থ ফেরত দিচ্ছে না পাকিস্তান। এ ব্যাপারে শাহরিয়ার কবির বলেন, সম্পত্তির দাবি উপস্থাপনের সময় শেষ হয়নি এখনো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমনওয়েলথ সম্মেলনে এটা উপস্থাপনের পর আজ পর্যন্ত এ দাবি আর কেউ তোলেনি। তবে নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটা তোলার সুযোগ এখনো আছে। আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে, একটি রাষ্ট্রের কাছে যদি আরেকটি রাষ্ট্র পাওনা থাকে তাহলে সেই পাওনা দিতে ওই রাষ্ট্র বাধ্য। ফলে এ আইন ব্যবহার করেও দ্বিপাক্ষিকভাবে আমরা পাওনা আদায় করতে পারি।
এ ছাড়া আরো তিনটি বিষয় এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি। ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ত্রিপক্ষীয় এক আলোচনায় পাকিস্তান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ৭১-এর বর্বরতার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে। তখন এমনও সিদ্ধান্ত হয়, সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৯৫ পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে ফিরিয়ে দিলে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতিও দেবে। তখন ওই ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তার বিচার না করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু অদ্যাবধি পাকিস্তান তাদের বিচারের মুখোমুখি করেনি এবং একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাও চায়নি। এ ব্যাপারে শাহরিয়ার কবির বলেন, ক্ষমাপ্রার্থনার আগে তারা যে অন্যায় করেছিল, সেটি স্বীকার করাতে হবে। তা না হলে কিসের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। পাকিস্তান তো সেটিই স্বীকার করছে না। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা ১৯৫-এর বেশি হবে। দেশ স্বাধীনের পর তাৎক্ষণিকভাবে এ সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ক্ষতিগ্রস্তরা আরো কিছু পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তাদের নাম বলেছে, যারা অবর্ণনীয় নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়েছে। সুতরাং সর্বশেষ সংখ্যা নিরূপণ করে বিচার করতে হবে।
অমীমাংসিত আরো একটি বিষয় হলো বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়া। ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত সমীক্ষা অনুসারে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৯ জন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করে এবং পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে। কিন্তু ১৯৭৩ সালের দিল্লি চুক্তি এবং ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান মাত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৭ জনকে পাকিস্তানে ফেরত নেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে এবং পরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪১ জনকে ফেরত নেয়। অবশিষ্ট প্রায় ৪ লাখ আটকে পড়া পাকিস্তানিকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পাকিস্তান সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় ইস্যুটি জোরালোভাবে তোলা হয়। কিন্তু পাকিস্তান এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ বিষয়ে সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বলেন, ৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি পাকিস্তান নিজেই ভঙ্গ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কিন্তু পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের ঠিকই ফেরত এনেছে, কিন্তু পাকিস্তান তাদের নাগরিকদের নিচ্ছে না। এটি অন্যায়।
সূত্র:protidinersangbad.
দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা পাকিস্তানের এ পাওনা দাবিকে ‘বিরূপ আচরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নানান কারণে দেশের ভেতর ও আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের অবস্থা খুবই নাজুক। বিশেষ করে সার্ক করতে না পারার জন্য তারা বাংলাদেষকে দুষছে। এ নিয়ে জনগণের কাছে নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে দেশটি। এখন দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তারা বাংলাদেশের কাছে পাওনা দাবির নামে হাস্যকর বিষয়ের অবতারণা করেছে। তবে বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে শক্তভাবে জবাব দিতে হবে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচারের কথা না ভেবে পাকিস্তানকে পাকিস্তানের ভাষায় জবাব দিতে হবে। বিশ্লেষকরা এমনও বলেছেন, বাংলাদেশের উচিত হবে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে পাকিস্তানকে শক্তভাবে ধরা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা। এই অমীমাংসিত পাঁচটি বিষয় হলো—১৯৭১-এর গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত পাকিস্তানের ক্ষমা প্রার্থনা, ১৯৫ পাকিস্তান সেনা যুদ্ধাপরাধীর বিচার, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফেরত নেওয়া, একাত্তরপূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ন্যায্য হিস্যা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ক্ষয়ক্ষতি আদায়।
পাশাপাশি অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মীমাংসায় পাকিস্তানের অনাগ্রহ ও ঔদ্ধত্যের জন্য বিশ্লেষকরা দেশের সরকারগুলোকেও দুষছেন। তাদের মতে, দেশ স্বাধীনের পর বিভিন্ন সরকার এসব বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে নমনীয়তার পরিচয় দিয়েছে। কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের নামে ছাড় দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের ঔদ্ধত্য বেড়েছে। সুতরাং পাকিস্তানের সঙ্গে এসব বিষয়ে বোঝাপড়ার এখনই মোক্ষম সময় বলেও মনে করেন তারা।
দ্য স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানকে (এসবিপি) উদ্ধৃত করে পাকিস্তানের দৈনিক এক্সপ্রেস ট্রিবিউন গত মঙ্গলবার এক খবরে জানিয়েছে, একাত্তরের আগে বাংলাদেশের কাছে পাওনা প্রায় ৭০০ কোটি টাকা (৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি) দাবি করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি অফিস, ঋণ, আগাম সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের কাছে যে টাকা পাওনা ছিল, ২০১৬ সালের জুন নাগাদ ভ্যালুয়েশন করে তা ৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে (৬০০ কোটি ৯২ লাখ টাকা) দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের কাছে এখন পাকিস্তান এই টাকা দাবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি ১৯৪৭-এর দেশভাগের আগের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বিবেচনায় নিয়ে দিল্লির কাছেও ৬ বিলিয়ন রুপি পাওয়ার দাবি করেছে পাকিস্তান।
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের অর্থ দাবিকে ‘অবাস্তব ও ভিত্তিহীন’ বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা পাকিস্তানের কাছে আমাদের পাওনা দাবি করেছি, সে কারণে ওটাকে ব্যাহত করার জন্য তারা উল্টা প্রস্তাব দিয়েছে, যেটা অবাস্তব, ভিত্তিহীন। ওরা আমাদের কাছ থেকে টাকা পাবে কোত্থেকে? পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যারা মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ৩০ লাখ লোককে হত্যা করেছে। আমাদের প্রাপ্য আছে পাকিস্তানে, কারণ তারা আমাদের শোষণ করেছে।
মুক্তিযুদ্ধের আগের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য রফতানি করে আয় করতাম। বিশেষ করে পাট থেকে ও আদমজী পাটকল থেকে আসা টাকাগুলো সব পাকিস্তান নিয়ে গেছে। বরং পাকিস্তানে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো তার ম্যাক্সিমামটা হতো বাংলাদেশের পণ্য থেকে। সেই হিসেবে আমরা তাদের (পাকিস্তান) কাছে টাকা পাব। তবে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ কবে, কীভাবে পাওনা দাবি করেছিল সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবির কলেন, এ ধরনের দাবি ‘কথার কথা’ ও বাংলাদেশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘পাল্টা কথা’ ছাড়া কিছুই নয়। এতে বিস্মিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ বর্তমানে পাকিস্তান নৈতিক অবস্থানে খুবই দুর্বল। সার্ক করতে পারেনি। সন্ত্রাসের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা। এখন তারা তাদের দুর্বলতা ঢাকার জন্য এমনটি করছে। কিন্তু পাকিস্তানকে মনে করে দেওয়া উচিত, একাত্তরে পাকিস্তান এ দেশে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যে অপরাধ করেছে, সেই দায়টা যত দ্রুত স্বীকার করবে ও ক্ষমা চাইবে, তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা ভালো হবে।
‘তবে পাকিস্তানের বিভিন্ন ঔদ্ধত্যের উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। তাদের একাত্তরের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। সামষ্টিকভাবে সেটা চাইলেই ভালো’—বলেও মন্তব্য করেন এই বিশ্লেষক।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসের কারণে পাকিস্তানকে এখন আর কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। এর মধ্যে সার্ক করতে না পারার জন্য তারা বাংলাদেশকে দুষছে। সেই রাগ থেকে, সে দেশের জনগণের কাছে সরকার তাদের বিতর্কিত ভাবমূর্তি রক্ষা করতে, জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এখন বাংলাদেশের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে চাইছে। আর সে জন্যই এমন অবান্তর দাবির বিষয় ভাবছে।
‘কিন্তু কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও সম্পর্কের কথা ভেবে বাংলাদেশ পাকিস্তানের আর কত ঔদ্ধত্য প্রশ্রয় দেবে—তা ভাবার সময় এসেছে। এ দাবির ব্যাপারে খুব শক্তভাবে জবাব দিতে হবে। বাংলাদেশের যে পাওনা সে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, পাকিস্তান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে কীভাবে গণহত্যা চালিয়েছে, পরে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে কী ষড়যন্ত্র করেছে এবং ধর্মীয় উগ্রপন্থি সন্ত্রাস লালনে তার ভূমিকা কী—এসব বিষয়ে শক্তভাবে আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। শিষ্টাচারের আর দরকার নেই। পাকিস্তানকে এখন থেকে পাকিস্তানের ভাষায় জবাব দিতে হবে।
বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের পাওনা দাবির ঘটনা গতকাল দেশজুড়ে ছিল আলোচিত। অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয়ের মধ্যে উঠে এসেছে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনার বিষয়টি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বণ্টনের বিষয়টির এত দিনেও সুরাহা হয়নি। উত্তরসূরি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সে সম্পদের আইনি অংশীদার। ১৯৭১ সালের আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশ ওই সম্পদের ৫৬ শতাংশ, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবদান বিবেচনায় ৫৪ শতাংশ এবং সমতার নীতি অনুসরণ করলে ৫০ শতাংশের দাবিদার বাংলাদেশ। এ ছাড়া ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য আসে ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ বিদেশি মুদ্রাগুলো তৎকালীন স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকার শাখায় রক্ষিত ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আত্মসাতের উদ্দেশে বৈদেশিক মুদ্রাগুলো স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের লাহোর শাখায় স্থানান্তর করা হয়। অর্থাৎ একাত্তরের আগে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের প্রাপ্য প্রায় ৩৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় জাতিসংঘের হিসেবে ১ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা বা ১২ লাখ ডলার। সব মিলে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের মোট পাওনা ৩৪ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তানকে পাওনা পরিশোধ করতে বলেছিল। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার পাকিস্তানের কাছে পাওনা আদায়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা করে। কিন্তু ওই অর্থ ফেরত দিচ্ছে না পাকিস্তান। এ ব্যাপারে শাহরিয়ার কবির বলেন, সম্পত্তির দাবি উপস্থাপনের সময় শেষ হয়নি এখনো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কমনওয়েলথ সম্মেলনে এটা উপস্থাপনের পর আজ পর্যন্ত এ দাবি আর কেউ তোলেনি। তবে নীতিগতভাবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটা তোলার সুযোগ এখনো আছে। আন্তর্জাতিক আইনে স্পষ্ট বলা আছে, একটি রাষ্ট্রের কাছে যদি আরেকটি রাষ্ট্র পাওনা থাকে তাহলে সেই পাওনা দিতে ওই রাষ্ট্র বাধ্য। ফলে এ আইন ব্যবহার করেও দ্বিপাক্ষিকভাবে আমরা পাওনা আদায় করতে পারি।
এ ছাড়া আরো তিনটি বিষয় এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি। ১৯৭৪ সালের এপ্রিলে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ত্রিপক্ষীয় এক আলোচনায় পাকিস্তান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ৭১-এর বর্বরতার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইবে। তখন এমনও সিদ্ধান্ত হয়, সুনির্দিষ্ট যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ১৯৫ পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে ফিরিয়ে দিলে পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশকে স্বীকৃতিও দেবে। তখন ওই ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তার বিচার না করে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু অদ্যাবধি পাকিস্তান তাদের বিচারের মুখোমুখি করেনি এবং একাত্তরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাও চায়নি। এ ব্যাপারে শাহরিয়ার কবির বলেন, ক্ষমাপ্রার্থনার আগে তারা যে অন্যায় করেছিল, সেটি স্বীকার করাতে হবে। তা না হলে কিসের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে। পাকিস্তান তো সেটিই স্বীকার করছে না। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যা ১৯৫-এর বেশি হবে। দেশ স্বাধীনের পর তাৎক্ষণিকভাবে এ সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে ক্ষতিগ্রস্তরা আরো কিছু পাকিস্তানি সেনাকর্মকর্তাদের নাম বলেছে, যারা অবর্ণনীয় নির্যাতন ও গণহত্যা চালিয়েছে। সুতরাং সর্বশেষ সংখ্যা নিরূপণ করে বিচার করতে হবে।
অমীমাংসিত আরো একটি বিষয় হলো বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিদের ফিরিয়ে নেওয়া। ১৯৭২ সালে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পরিচালিত সমীক্ষা অনুসারে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬৯ জন বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাখ্যান করে এবং পাকিস্তানে ফেরত যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে। কিন্তু ১৯৭৩ সালের দিল্লি চুক্তি এবং ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান মাত্র ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৩৭ জনকে পাকিস্তানে ফেরত নেয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করে এবং পরে ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৪১ জনকে ফেরত নেয়। অবশিষ্ট প্রায় ৪ লাখ আটকে পড়া পাকিস্তানিকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে পাকিস্তান সরকার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পাকিস্তান সরকার অনির্দিষ্টকালের জন্য এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় ইস্যুটি জোরালোভাবে তোলা হয়। কিন্তু পাকিস্তান এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ বিষয়ে সাবেক কূটনীতিক হুমায়ুন কবীর বলেন, ৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি পাকিস্তান নিজেই ভঙ্গ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কিন্তু পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের ঠিকই ফেরত এনেছে, কিন্তু পাকিস্তান তাদের নাগরিকদের নিচ্ছে না। এটি অন্যায়।
সূত্র:protidinersangbad.


Social Links: