খুক খু্ক, ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশি…

By Unknown মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬
ঢাকার যেন সব মানুষই এখন কম বেশী শুধু কাশে আর কাশে। সবার যেন খুশ খুশে কাশি। রাস্তায়, অফিসে, বাসে, ট্রেনে, বাজারে গেলেই পরিচিত জনের সাথে দেখা হলেই প্রায় এক কথা-“আর বলবেন না, ঠাণ্ডা কাশিতে নাজেহাল।’’

শিশু আর বয়োবৃদ্ধদের অবস্থা একটু বেশীই খারাপ বলা যায়।

ঋতু পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে ঠাণ্ডা, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি বেড়ে যায়। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের কাবু করে আরো বেশী। এই ব্যস্ত নগরীতে রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় খুক খুক করে কাশছে মানুষ।

কেনও আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে এমন হবে? বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলছেন, ঠাণ্ডা, জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট বিভিন্ন ভাবে হতে পারে। শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে ধুলো-বালি ঢুকলে, শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং সেই সাথে ধূমপান করা। ধূমপান করলে ঠাণ্ডা লাগার পাশাপাশি হয় শ্বাসকষ্ট।

একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্র মো. শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ার সময় ঠাণ্ডা লাগে। কিন্তু এমন হয় কেন? উত্তরে তিনি বলেন, ঋতু পরিবর্তন হওয়ার সময় এরকমত হতেই পারে।

রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় রিকশাচালক মো. আবুল মিয়া জানান, গত দুইদিন ধরে তার ঠাণ্ডা-জ্বর। মাঝে মাঝে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে ঠাণ্ডা জ্বরের প্রকোপ কেন বারে এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. অমর বিশ্বাস পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে ঠাণ্ডা জ্বর হয় এটা ঠিক। ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশির কারণে অ্যালার্জি বেড়ে যায়। অপরদিকে বিশেষ করে যাদের কোল্ড এলার্জি (ঠাণ্ডা জনিত এলার্জি) থাকে তাদের ঠাণ্ডা কাশি এগুলো বেশী হয়। এটা একটা ফ্যাক্টর। এজন্য শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এগুলোর সংক্রামণ বেড়ে যায়।’

যাদের অ্যালার্জির জনিত কোষ থাকে তাদের শ্বাস যন্ত্রের প্রথম দিকটা উচ্চ সংবেদনশীল হয়, এবং এই অংশ সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে হাঁচি, কাশি ও সর্দি লেগে যায়। ঠাণ্ডাটা আসলে এলার্জেন ও ইরিটেনের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

যাদের বয়স কম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো ভাবেই প্রস্ফুটিত হয়নি তাদের এবং যারা বেশী বয়সের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে এই দুই পর্যায়ে ঠাণ্ডা-কাশি বেশী হয়। অপর দিকে যাদের ডায়াবেটিস আছে, ক্যান্সার রয়েছে অথবা এমন কোনো ঔষধ খায় যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। এটা একটা ফ্যাক্টর হতে পারে বলে জানান ডাক্তার অমর বিশ্বাস।

তার মতে দুই তিনটি সিজনে এটা বেশী হয় যেমন, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শীতকালের প্রথম দিকে।

ডা. অমর বিশ্বাস আরও জানান, ‘আপার এয়ার ওয়ে (শ্বাস আসা-যাওয়ার পথটাকে বুঝায়) ও লোয়ার এয়ার (যে জায়গা নাক দিয়ে গ্রহণ করা অক্সিজেন রক্তে মিলিত হয়) দুইটিই জায়গাতেই বেশ পরিবর্তন হয়। যারা ধূমপান করে আর কাশি দেয় তাদের তাদের আপার এয়ার ওয়েতে সংক্রামণ হয় ও এই অংশটুকু সংকুচিত হয়ে যায়। সেই সাথে যাদের অ্যালার্জি আছে এবং ধূমপান করে তাদের কাশিটা বেশী হয়। কষ্টও বেশী হয়।

ব্যস্ত রাজধানীতে আপার এয়ার ওয়ে ও লোয়ার এয়ার ওয়ের উপর প্রভাব ফেলে ধুল-বালি, ফুলের রেনু, ধোঁয়া ইত্যাদি। যেহেতু রাস্তায় বেড় হলেই নাক মুখ দিয়ে ধুলোবালি প্রবেশ করে তাই জনবহুল ও ধুলাযুক্ত ঘনবসতির এই শহরে মানুষের বেশী ঠাণ্ডা বা এই জাতীয় রোগ বেশী হচ্ছে।

শীতের শুরুতে ঠাণ্ডা কাশি জ্বরের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে ধুলবালি থেকে দূরে থাকা, পর্যাপ্ত শীতের কাপড় ব্যাবহার, বিশুদ্ধ পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার ও ধূমপান না করার পরামর্শ চিকিৎসকের।

সূত্র:poriborton
Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.