শীতকালীন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও করণীয়

By Unknown শনিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৬
কালপরিক্রমার হিসেবে শীতকাল পড়তে সপ্তাহ দু’য়েক বাকি থাকলেও শীত অনুভূত হচ্ছে দেশজুড়ে। শহরে ততটা বোঝা না গেলেও গ্রামাঞ্চলে বিশেষত উত্তরাঞ্চলে ভালো শীত পড়ছে। উত্তরের হিমেল বাতাসও প্রবাহিত হচ্ছে।

 ফলে শীতকালীন অসুখ-বিসুখ দেখা দিচ্ছে সারা দেশে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা ঠাণ্ডা-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভিড় করছেন। ঋতু পরিবর্তনের সময় প্রাকৃতিক কারণেই স্বাস্থ্যজনিত নানা সমস্যা দেখা দেয় মানুষের।

 ঠাণ্ডাজনিত কারণে শুধু যে কেবল সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট এমন অসুখই হয়, তা কিন্তু নয়। এ সময় ডায়রিয়া, আমাশয় এমনকি বাতজনিত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ঠাণ্ডার প্রকোপে হৃদরোগও বেড়ে যেতে পারে অনেকের।

 তাই ঋতু পরিবর্তন বা শীত শুরুর আগে আগে রোগীসহ সকলেরই সচেতন হওয়া জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা গ্রামে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে। শুধু ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া বা ওষুধ সেবন করলেই যে অসুখ-বিসুখের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে তা নয়।

যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি যেমন মেনে চলতে হবে, তেমনই খাওয়া-দাওয়া, শরীরচর্চা সম্পর্কেও উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ব্যবস্থা নিতে হবে। অসুখে আক্রান্ত হবার আগেই সতর্ক হলে ঝামেলা কম হয়। আর কোনও সমস্যা দেখা দিলে বিলম্ব না করে যতটা সম্ভব দ্রুত ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরিস্থিতি জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

 অনেকেই আছেন আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু, এই যাই, যাচ্ছি করতে করতে সময় নষ্ট করে দেহযন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। ফলে অসুখ তখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে যেমন রোগীর ভোগান্তি আর ঝুঁকি বাড়ে, তেমনই যে অসুখ সামান্য ওষুধে এবং অল্প সময়ে সেরে যেতে পারতো, তা সারাতে দীর্ঘসময় লাগে ও ব্যয় বেড়ে যায়।

 কখনও কখনও শুধু সময়মতো ডাক্তারের কাছে না যাওয়াতে সাধারণ রোগও জটিল আকার ধারণ করে এবং বিদেশে গিয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা করাতে হয়। কথায় বলে না, ‘সময়ের এক ফোঁড় আর অসময়ের দশ ফোঁড়’। ঠিক সময়ে অসুখের চিকিৎসা না করালে তার যথেষ্ট খেসারতও দিতে হয়।

অসুখের চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা যেমন একান্ত জরুরি, তেমনই খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। যেমন কারোর ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা থাকলে শীতকালে তার যেমন ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার না করে ঈষদোষ্ণ পানি পান করা দরকার; তেমনই অযু- গোসলেও গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে গরম কাপড়, গলায় মাফলার ব্যবহার করতে হবে, যাতে সহজে ঠাণ্ডা না লেগে যায়।

 অনেকে বদঅভ্যাসবশত ধূমপান তথা সিগারেট, বিড়ি, তামাক, গুল, জর্দা, সাদাপাতা ব্যবহার করেন। এসব গ্রহণ করলে ঠাণ্ডা লাগা, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বেশি হয়। এমনকি যক্ষ্মা, হাঁপানির মতো দুরারোগ্য অসুখ ধূমপায়ীদেরই বেশি হয় বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রায় প্রতিদিন বলছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতেও শুধু ধূমপানজনিত কারণে মানুষের সাধারণ থেকে অনেক জটিল তথা মরণব্যাধি পর্যন্ত হতে পারে।

 কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ধূমপান তথা তামাকের মতো ভয়াবহ মাদকগ্রহণ করে মানুষ নিজেদের মৃত্যুর দিকে দ্রুত ঠেলে দিচ্ছে। ধূমপান কেবল সর্দি-কাশি, যক্ষ্মা, এজমার মতো দুরারোগ্য অসুখই সৃষ্টি করে না। মরণব্যাধি ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হচ্ছে এই ধূমপান।

 এ সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আমাদের দেশে ধূমপানের প্রসারে ‘অবদান’ রেখে চলেছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের এখনই সোচ্চার হবার সময় এসেছে। ধূমপান ছাড়াও আমাদের অনেকেই মশার কয়েল ব্যবহার করেন।

 এই মশা তাড়ার কয়েলে মারাত্মক ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া মশা তাড়ার স্প্রে, বাসাবাড়ি বা অফিসে ব্যবহৃত এয়ার রিফ্রেসারও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে।
যাই হোক, আমাদের ঘরে-বাইরে হাজারও স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টিকারী উপাদান ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।

তারপর শুধু অসচেতনতার কারণে শীতজনিত অসুখ থেকে আমরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারি না। অবুঝ শিশুদের নিজেদের অলক্ষ্যেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নিক্ষেপ করি। শীতকালে ফ্রিজের জিনিস গরম অথবা নরমাল না করে খাওয়া, শিশু-কিশোরদের সামনে ধূমপান করা- সবই হয় কেবল অসতর্কতার কারণে।

এছাড়া শিশু-কিশোরদের সামনে ধূমপান করা তো দ-নীয় অপরাধও। আসুন, আমরা সচেতন হই, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহযোগিতা করি। এ ঝুঁকি থেকে নিজেরা বাঁচি; ভবিষ্যৎ বংশধরদেরও বাঁচাই।


সূত্র:dailysangram
Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.