দেবব্রত মুখোপাধ্যায়: কখনো শিশিরের শব্দ শুনেছেন?
স্কয়ার কাট আর স্কয়ার ড্রাইভে ব্যাট-বলের শব্দকে আলাদা করতে পারেন? শর্ট বল আর ফুল লেন্থ ডেলিভারির শব্দ যে ভিন্ন হয়, জানতেন?
দরকার হয়নি।
আমাদের দুটো চোখ আছে। তাই শিশির বিন্দু দেখতে পাই। আমাদের দুটো চোখ আছে তাই ব্যাটসম্যানের শট দেখতে পাই, বোলারের ডেলিভারি দেখতে পাই। আমাদের শব্দ চিনতে হয় না।
কিন্তু একবার কল্পনা করে দেখুন, এজন মানুষের কথা; যিনি জন্ম থেকে কিছুই দেখতে পান না ; কিন্তু ক্রিকেট জানতে চান, ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে চান; তাকে তো শব্দ চিনতেই হবে। সেই মানুষটিই যদি হন ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার, তার দুনিয়াকে হতে হবে শব্দময়; দুনিয়ার সুক্ষাতিসুক্ষ শব্দটি অবদি তিনি চিনতে পারবেন।
চোখে কিছুই না দেখে তিনি চিৎকার করে বলতে উঠতে পারবেন, ‘শর্ট ডেলিভারি। ব্যাটসম্যান উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। ছয় হচ্ছে নিশ্চিত। ছয়...’
হ্যা, আমরা বলছিলাম ডিন ডু প্লেসিসের কথা। দৃষ্টিহীন ধারাভাষ্যকার ডিন ডু প্লেসিস।
আজকের দিনের টেলিভিশন ধারাভাষ্যে আপনি হয়তো খুব জোর করে একজন দৃষ্টিহীন মানুষকে কল্পনা করতে পারেন। কারণ, টিভি ধারাভাষ্যে প্রতি মুহুর্তে কী হচ্ছে, এটা জানানো খুব জরুরী নয়। আশেপাশের গল্প বলে, বিশ্লেষন করে ধারাভাষ্য চালানো সম্ভব। কিন্তু ডু প্লেসিস একজন রেডিও ধারাভাষ্যকার!
জন্মান্ধ এই মানুষটি সারা জীবনে কখনো ব্যাট বা বল চোখে দেখেননি; এই পৃথিবীর কোনো বস্তুই দেখার সুবাদে তার কাছে অস্তিত্বশীল নয়। অথচ এই মানুষটিই বছরের পর বছর নিখুতভাবে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের বল বাই বল ধারাভাষ্য দিয়ে চলেছেন জিম্বাবুয়ের রেডিওতে।
ডু প্লেসিসের গল্পটা শুধু সিনেমাটিক নয়, রীতিমতো অতিনাটকীয়।
মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই দৃষ্টি হারিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের এই মানুষটি। দুটি চোখের রেটিনার পেছনেই ছিলো টিউমার। জন্মের পর ডাক্তাররা বলেছিলেন, দুই তিন মাসের মধ্যে ছেলেটি মারা যাবে। সে অনুমান সত্যি না হলেও ধাপে ধাপে দুটি চোখই অক্ষিকোঠর থেকে ফেলে দিতে হয়েছে; চোখের সেই জায়গা নিয়েছে পাথরের তৈরী চোখ।
ডু প্লেসিস জীবনে কখনো খেলার ছলেও ক্রিকেট খেলেননি। আজকাল দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের খেলার উপায় আছে; তাও জানতেন না। ডিনের ভাই গ্রেগ যদিও জিম্বাবুয়েতে স্থানীয় কিছু ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু ডু প্লেসিস এই খেলাটির ব্যাপারে কোনো ধারণাই পাননি ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বোর্ডিং স্কুলে যাওয়ার আগ অবদি।
বোর্ডিং স্কুলে অলস সময়টা কাটানো তখন অসহ্য হয়ে উঠেছিলেন ডিনের। বাকীরা মাঠে রাগবি খেলে, ক্রিকেট খেলে; ডিন ঘরে বসে শুধু রেডিও শোনেন। শোনা ছাড়া তার আর কোনো উপায় তো নেই। তখনই একদিন রেডিওর চ্যানেল বদলাতে বদলাতে হঠাৎ কানে
স্কয়ার কাট আর স্কয়ার ড্রাইভে ব্যাট-বলের শব্দকে আলাদা করতে পারেন? শর্ট বল আর ফুল লেন্থ ডেলিভারির শব্দ যে ভিন্ন হয়, জানতেন?
দরকার হয়নি।
আমাদের দুটো চোখ আছে। তাই শিশির বিন্দু দেখতে পাই। আমাদের দুটো চোখ আছে তাই ব্যাটসম্যানের শট দেখতে পাই, বোলারের ডেলিভারি দেখতে পাই। আমাদের শব্দ চিনতে হয় না।
কিন্তু একবার কল্পনা করে দেখুন, এজন মানুষের কথা; যিনি জন্ম থেকে কিছুই দেখতে পান না ; কিন্তু ক্রিকেট জানতে চান, ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে চান; তাকে তো শব্দ চিনতেই হবে। সেই মানুষটিই যদি হন ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার, তার দুনিয়াকে হতে হবে শব্দময়; দুনিয়ার সুক্ষাতিসুক্ষ শব্দটি অবদি তিনি চিনতে পারবেন।
চোখে কিছুই না দেখে তিনি চিৎকার করে বলতে উঠতে পারবেন, ‘শর্ট ডেলিভারি। ব্যাটসম্যান উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। ছয় হচ্ছে নিশ্চিত। ছয়...’
হ্যা, আমরা বলছিলাম ডিন ডু প্লেসিসের কথা। দৃষ্টিহীন ধারাভাষ্যকার ডিন ডু প্লেসিস।
আজকের দিনের টেলিভিশন ধারাভাষ্যে আপনি হয়তো খুব জোর করে একজন দৃষ্টিহীন মানুষকে কল্পনা করতে পারেন। কারণ, টিভি ধারাভাষ্যে প্রতি মুহুর্তে কী হচ্ছে, এটা জানানো খুব জরুরী নয়। আশেপাশের গল্প বলে, বিশ্লেষন করে ধারাভাষ্য চালানো সম্ভব। কিন্তু ডু প্লেসিস একজন রেডিও ধারাভাষ্যকার!
জন্মান্ধ এই মানুষটি সারা জীবনে কখনো ব্যাট বা বল চোখে দেখেননি; এই পৃথিবীর কোনো বস্তুই দেখার সুবাদে তার কাছে অস্তিত্বশীল নয়। অথচ এই মানুষটিই বছরের পর বছর নিখুতভাবে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের বল বাই বল ধারাভাষ্য দিয়ে চলেছেন জিম্বাবুয়ের রেডিওতে।
ডু প্লেসিসের গল্পটা শুধু সিনেমাটিক নয়, রীতিমতো অতিনাটকীয়।
মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থাতেই দৃষ্টি হারিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের এই মানুষটি। দুটি চোখের রেটিনার পেছনেই ছিলো টিউমার। জন্মের পর ডাক্তাররা বলেছিলেন, দুই তিন মাসের মধ্যে ছেলেটি মারা যাবে। সে অনুমান সত্যি না হলেও ধাপে ধাপে দুটি চোখই অক্ষিকোঠর থেকে ফেলে দিতে হয়েছে; চোখের সেই জায়গা নিয়েছে পাথরের তৈরী চোখ।
ডু প্লেসিস জীবনে কখনো খেলার ছলেও ক্রিকেট খেলেননি। আজকাল দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের খেলার উপায় আছে; তাও জানতেন না। ডিনের ভাই গ্রেগ যদিও জিম্বাবুয়েতে স্থানীয় কিছু ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু ডু প্লেসিস এই খেলাটির ব্যাপারে কোনো ধারণাই পাননি ১৯৯১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বোর্ডিং স্কুলে যাওয়ার আগ অবদি।
বোর্ডিং স্কুলে অলস সময়টা কাটানো তখন অসহ্য হয়ে উঠেছিলেন ডিনের। বাকীরা মাঠে রাগবি খেলে, ক্রিকেট খেলে; ডিন ঘরে বসে শুধু রেডিও শোনেন। শোনা ছাড়া তার আর কোনো উপায় তো নেই। তখনই একদিন রেডিওর চ্যানেল বদলাতে বদলাতে হঠাৎ কানে
সূত্র:mtnews24


Social Links: