বদলে গেছে সময়। আধুনিকায়নের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের সচেতনতা। কেউবা কোনো ধারণা ছাড়াই ছুটছেন ট্রেন্ডের দিকে। নারীদের চাহিদা মতো সেবা দিতে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে বিউটি পার্লারের সংখ্যা। নামকরা বিউটি পার্লারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অলিগলিতেও গড়ে উঠছে সৌন্দর্য চর্চা কেন্দ্র। শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশে প্রতিদিন হাজার হাজার নারী ছুটছেন এসব বিউটি পার্লারে। নানা রকম সেবা নিচ্ছেন তারা।
রূপ সচেতনতার প্রশংসা করলেও চিকিৎসকরা এসব সেবা নিতে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিদিন রাজধানীতে কতসংখ্যক নারী বিভিন্ন রূপচর্চা কেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে থাকেন তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে পারসোনা হেয়ার অ্যান্ড বিউটি লিমিটেডের ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার রেশমা আক্তার জানান, দীর্ঘ উনিশ বছর থেকে সেবা দিয়ে আসছে পারসোনা।
বর্তমানে পারসোনার এগারোটি শাখা আছে। তার মধ্যে ঢাকায় আছে নয়টি শাখা। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছে স্কিন অ্যান্ড হেয়ার কেয়ার সার্ভিস, ব্রাইডাল এবং পার্টি মেকআপ। এই ম্যানেজার জানান, পারসোনা ধানমন্ডি ব্রাঞ্চে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচশ’ নারী বিভিন্ন রূপচর্চাবিষয়ক সেবা নিয়ে থাকেন। তবে বিভিন্ন উৎসবে এর সংখ্যা দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি থাকে।
শুধুমাত্র অভিজাত এলাকা নয়, ঢাকার অলিগলিতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বিউটি পার্লার। পুরাতন ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায় গলির মোড়ে ব্যানার লাগানো বিউটি পার্লারের সংখ্যা প্রায় বিশটির মতো। অধিকাংশ পার্লারই ফ্যামিলি বাসা এবং পার্লার দুই কাজেই ব্যবহার করা হয়। পার্লারগুলোতে প্রতিদিন গড়ে আট থেকে দশ জন সেবা নিয়ে থাকেন।
নাজিরাবাজার এলাকার প্রেরণা বিউটি পার্লারের মালিক রাবেয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিন আট থেকে দশ জন নারী সেবা নিয়ে থাকেন তার প্রতিষ্ঠান থেকে। এখানে আর কোনো কর্মী নেই। তিনি একাই সব কাজ করেন। তবে শীতকালে বিয়ের সময়ে ভিড় থাকে একটু বেশি।
এদিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ সচেতন হয়েছে এবং সচেতনতাটা ইতিবাচকভাবেই এসেছে। এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সৌন্দর্য মানেই যে, কতগুলো কালার কসমেটিকস দিয়ে সেজে থাকা, সেটা না। বিষয়টির গভীরতা আছে, সৌন্দর্য ধরে রাখতে এর পেছনে কাজ করতে হয়। মানুষের ভেতরে এটা এসেছে এবং তারা বুঝতে শিখেছে।
অনেকে সাধারণত বিশেষ উপলক্ষে সাজেন, সেটার বাইরেও যে সৌন্দর্য ধরে রাখার চর্চা করতে হয়, সেই কাজগুলো এখন তারা করছেন। সেই সচেতনতা এসেছে। এটা অবশ্যই একটা পজিটিভ দিক। তবে যেকোনো বিউটি পার্লার থেকে সেবা নেয়ার সময় নিজেদের ত্বক সম্পর্কে জেনে নেয়া ভালো। সেই সঙ্গে যাদের কাছ থেকে সেবা নিচ্ছেন তারা কতটুকু অভিজ্ঞ সেটা বিবেচনা করে সেবা নিতে হবে।
ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যৌন ও চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলেন, রূপসচেতনতা খারাপ নয়। ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রাখতে এবং ধুলাবালি থেকে মুক্ত রাখার জন্য আমাদের সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।
আর নিজেকে একটু ভিন্ন দেখাতে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়ম করে সেবা নেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, বিউটি পার্লার থেকে বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়াল নেয়া খারাপ কিছু নয়। তবে সেটার সঠিক মান নিশ্চিত করেছে কিনা সেটা বুঝে নিতে হবে। আর যাদের দিয়ে পরিচর্যা করানো হচ্ছে সে কতটুকু জানেন সেই বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, বিউটি পার্লারে অনেক সময় একই জিনিস সবার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সব মানুষের ত্বক একই রকম নয়। এক্ষেত্রে ত্বকের অবস্থা বুঝে সে অনুযায়ী সেবা দেয়া এবং নেয়া ভালো। আফজালুল করিম বলেন, ইদানীং সবাই রঙ ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহার করছেন। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এটা সবার জন্য নয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. এবিএম মুসা বলেন, কিছু নামকরা বিউটি পার্লার ছাড়া অধিকাংশ পার্লারেই অনভিজ্ঞ কর্মী দিয়ে সেবা দেয়া হয়। আর তাদের ব্যবহৃত পণ্যের মান নিয়েও শঙ্কা থাকে। এইসব দিক বিবেচনা করলে বিউটি পার্লারের পজিটিভ দিক নেই।
তাই আমি বলবো রূপচর্চার জন্য বিউটি পার্লারে না গিয়ে নিয়মিত শাকসবজি, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং স্কিন ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার খেলেই বাড়তি কোনোকিছুর প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, অনেকেই মুখে ব্রণ কিংবা অন্য সমস্যা হলে বিউটি পার্লারে ছুটোছুটি করেন। যেটা মোটেও স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। এসব সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভালো
সূত্র:mzamin
রূপ সচেতনতার প্রশংসা করলেও চিকিৎসকরা এসব সেবা নিতে সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রতিদিন রাজধানীতে কতসংখ্যক নারী বিভিন্ন রূপচর্চা কেন্দ্র থেকে সেবা নিয়ে থাকেন তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। তবে পারসোনা হেয়ার অ্যান্ড বিউটি লিমিটেডের ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার রেশমা আক্তার জানান, দীর্ঘ উনিশ বছর থেকে সেবা দিয়ে আসছে পারসোনা।
বর্তমানে পারসোনার এগারোটি শাখা আছে। তার মধ্যে ঢাকায় আছে নয়টি শাখা। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য সার্ভিসগুলোর মধ্যে আছে স্কিন অ্যান্ড হেয়ার কেয়ার সার্ভিস, ব্রাইডাল এবং পার্টি মেকআপ। এই ম্যানেজার জানান, পারসোনা ধানমন্ডি ব্রাঞ্চে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচশ’ নারী বিভিন্ন রূপচর্চাবিষয়ক সেবা নিয়ে থাকেন। তবে বিভিন্ন উৎসবে এর সংখ্যা দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি থাকে।
শুধুমাত্র অভিজাত এলাকা নয়, ঢাকার অলিগলিতেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বিউটি পার্লার। পুরাতন ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায় গলির মোড়ে ব্যানার লাগানো বিউটি পার্লারের সংখ্যা প্রায় বিশটির মতো। অধিকাংশ পার্লারই ফ্যামিলি বাসা এবং পার্লার দুই কাজেই ব্যবহার করা হয়। পার্লারগুলোতে প্রতিদিন গড়ে আট থেকে দশ জন সেবা নিয়ে থাকেন।
নাজিরাবাজার এলাকার প্রেরণা বিউটি পার্লারের মালিক রাবেয়া আক্তার বলেন, প্রতিদিন আট থেকে দশ জন নারী সেবা নিয়ে থাকেন তার প্রতিষ্ঠান থেকে। এখানে আর কোনো কর্মী নেই। তিনি একাই সব কাজ করেন। তবে শীতকালে বিয়ের সময়ে ভিড় থাকে একটু বেশি।
এদিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ সচেতন হয়েছে এবং সচেতনতাটা ইতিবাচকভাবেই এসেছে। এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সৌন্দর্য মানেই যে, কতগুলো কালার কসমেটিকস দিয়ে সেজে থাকা, সেটা না। বিষয়টির গভীরতা আছে, সৌন্দর্য ধরে রাখতে এর পেছনে কাজ করতে হয়। মানুষের ভেতরে এটা এসেছে এবং তারা বুঝতে শিখেছে।
অনেকে সাধারণত বিশেষ উপলক্ষে সাজেন, সেটার বাইরেও যে সৌন্দর্য ধরে রাখার চর্চা করতে হয়, সেই কাজগুলো এখন তারা করছেন। সেই সচেতনতা এসেছে। এটা অবশ্যই একটা পজিটিভ দিক। তবে যেকোনো বিউটি পার্লার থেকে সেবা নেয়ার সময় নিজেদের ত্বক সম্পর্কে জেনে নেয়া ভালো। সেই সঙ্গে যাদের কাছ থেকে সেবা নিচ্ছেন তারা কতটুকু অভিজ্ঞ সেটা বিবেচনা করে সেবা নিতে হবে।
ঢাকার হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যৌন ও চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলেন, রূপসচেতনতা খারাপ নয়। ত্বকের আর্দ্রতা ঠিক রাখতে এবং ধুলাবালি থেকে মুক্ত রাখার জন্য আমাদের সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।
আর নিজেকে একটু ভিন্ন দেখাতে এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়ম করে সেবা নেয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, বিউটি পার্লার থেকে বিভিন্ন ধরনের ফেসিয়াল নেয়া খারাপ কিছু নয়। তবে সেটার সঠিক মান নিশ্চিত করেছে কিনা সেটা বুঝে নিতে হবে। আর যাদের দিয়ে পরিচর্যা করানো হচ্ছে সে কতটুকু জানেন সেই বিষয়টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, বিউটি পার্লারে অনেক সময় একই জিনিস সবার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সব মানুষের ত্বক একই রকম নয়। এক্ষেত্রে ত্বকের অবস্থা বুঝে সে অনুযায়ী সেবা দেয়া এবং নেয়া ভালো। আফজালুল করিম বলেন, ইদানীং সবাই রঙ ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহার করছেন। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে এটা সবার জন্য নয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. এবিএম মুসা বলেন, কিছু নামকরা বিউটি পার্লার ছাড়া অধিকাংশ পার্লারেই অনভিজ্ঞ কর্মী দিয়ে সেবা দেয়া হয়। আর তাদের ব্যবহৃত পণ্যের মান নিয়েও শঙ্কা থাকে। এইসব দিক বিবেচনা করলে বিউটি পার্লারের পজিটিভ দিক নেই।
তাই আমি বলবো রূপচর্চার জন্য বিউটি পার্লারে না গিয়ে নিয়মিত শাকসবজি, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং স্কিন ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার খেলেই বাড়তি কোনোকিছুর প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, অনেকেই মুখে ব্রণ কিংবা অন্য সমস্যা হলে বিউটি পার্লারে ছুটোছুটি করেন। যেটা মোটেও স্থায়ী কোনো সমাধান নয়। এসব সমস্যার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া ভালো
সূত্র:mzamin


Social Links: