তাসকিন-নবিতে জয়ের দেখা পেল চিটাগং ভাইকিংস

By Unknown শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৬
অবশেষে ৪ ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখল তামিম ইকবালের চিটাগং ভাইকিংস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর শুক্রবারের প্রথম খেলায় ১৯ রানে রাজশাহী কিংসকে হারিয়ে দিয়েছে চিটাগং। ব্যর্থ হয়নি এনামুল হক বিজয় (৫০) এবং মোহাম্মদ নবির (৮৭) জোড়া হাফসেঞ্চুরি। চিটাগং ভাইকিংসের ১৯০ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ১৭১ রানেই শেষ হয়ে যায় রাজশাহী কিংস। আর এতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন পেসার তাসকিন। ৪ ওভার বল করে ৩১ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট দখল করেন এই তরুণ স্পিডস্টার।

এর আগে ঘরের মাঠ চট্টগামের শহীদ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি চিটাগং ভাই্কিংসের। দলীয় ১৭ রানেই ফিরে যান অধিনায়ক তামিম ইকবাল। দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানের বিদায়ে চাপে পড়ে যায় দলটি। এরপর দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদায় নেন আরও ৩ ব্যাটসম্যান। তবে খেলার তখনও অনেক বাকী। আসল খেলাটা দেখালেন এনামুল হক বিজয় (৫০) এবং মোহাম্মদ নবি (৮৭)। দুজনের জোড়া হাফ সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেট হারিয়ে রাজশাহী কিংসকে ১৯১ রানের টার্গেট দেয় চিটাগং ভাইকিংস।

রাজশাহীর হয়ে শুরুতে আঘাত হানেন তরুণ স্পিন বিস্ময় মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ব্যক্তিগত ৫ রানে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। এরপর হাত খুলে মারতে শুরু করেছিলেন ডোয়াইন স্মিথ। ৬টি চার এবং ১ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৪ রান করার পর তিনি শিকার হন আবুল হাসান রাজুর। রাজুর দারুণ একটি ইয়র্কারে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান এই ক্যারিবীয় টি-২০ স্পেশালিস্ট। স্মিথের পর সামিত প্যাটেলের বলে উইকেটকিপার নুরুল হাসানের হাতে ধরা পড়েন ইলিয়ট (৮)। দলীয় ১০ রানের ব্যবধানে একই বোলারের বলে ফরহাদ রেজার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জহুরুল ইসলাম (২)। অপর প্রান্তে তখন একাকী এনামুল হক বিজয়।

জহুরুলের বিদায়ের পর এনামুলের সঙ্গী হন চলতি বিপিএলে দারুণ পারফরমেন্স দেখানো মোহাম্মদ নবি। নবিকে পেয়ে শুরুতে ধীরে ব্যাটিং করা এনামুল হাত খুলতে শুরু করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের জুটি ৫০ অতিক্রম করে। উইকেটে পরে এলেও ধুমধারাক্কা ব্যাট চালিয়ে ২চার এবং ৪ ছক্কার সাহায্যে ২৫ বলে হাফসেঞ্চুরি পুরণ করেন মোহাম্মদ নবি। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করেননি এনামুলও। ৩৯ বলে হাফসেঞ্চুরি পুরণ করেন তিনি। এতে রয়েছে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কার মার।

৫০ পুরণ করে পরের বলেই ফরহাদ রেজার বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সামিত প্যাটেলের সহজ ক্যাচে পরিণত হন এনামুল। ভাঙে ১০৫ রানের অতি প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী জুটি। তবে আগের মতই ব্যাট চালাতে থাকেন নবি। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ৮৭ রান। আর চিটাগংয়ের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৯০ রান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে রাজশাহী কিংসের দুই ওপেনার মমিনুল হক এবং জুনায়েদ সিদ্দিকী। দুজনে মিলে ২৬ বলে ৪৪ রানের জুটি গড়েন। ১৪ বলে ৪টি চারে ২২ রান করা মমিনুল তাসকিন আহমেদের বলে জহুরুল ইসলামের হাতে ধরা পড়লে ভাঙে এই জুটি। এরপর ক্রিজে আসেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ড্যাশিং ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। সাব্বির-জুনায়েদ জুটি না জমতেই ইলিয়টের বলে মোহাম্মদ নবির হাতে ধরা পড়েন জুনায়েদ। এর আগে তিনি ২৮ বলে ১চার এবং ৩ ছক্কায় ৩৮ রান করেন।

সাব্বির মাঝারি গতিতে খেলে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন উমর আকমল। তাসকিন আহমেদের বলে ডোয়াইন স্মিথের হাতে ধরা পড়ার আগে তিনি ১২ বলে ২ চার এবং ১ ছক্কায় করেন ২১ রান। জিততে হলে রাজশাহীর দরকার তখনো ৮৯ রান। কিন্তু সাব্বির তো আছেন। রাজশাহী তাই্ নিশ্চিন্ত। তবে এই নিশ্চিন্ত বেশিক্ষণ থাকা হলো না। কারণ ৩০ বলে গড়া সাব্বির রহমানের  ৪৬ রানের ইনিংসটি ইমরানে খানের বলে তামিম ইকবালের হাতে শেষ হলো। ইনিংসটিতে তিনি ১ চার এবং ৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এরপর সামিত প্যাটেলও ফিরে যান ৬ রান করে।

তখনও ভরসা হিসেবে উইকেটে ছিলেন ড্যারেন স্যামি। তিনিও আলাদা কিছু করে দেখাতে ব্যর্থ হলেন। ১৪ রান করে ইমরান খানের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর আবারও মঞ্চে আবির্ভাব স্পিডস্টার তাসকিনের। তরুণ পেসারের পরপর দুই বলে বিদায় নেন শ্রীবর্ধনা (৪) এবং মেহেদী হাসান মিরাজ (২)। এরপর চিটাগংয়ের জন্য জয় কেবলই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ ওভারে তাসকিনের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন ফরহাদ রেজা (৯)। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে রাজশাহীর স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৭১ রান।

দিনের অপর খেলায় সন্ধ্য সোয়া ছয়টায় মুখোমুখি হবে এখনও পর্যন্ত জয়ের দেখা না পাওয়া একমাত্র দল মাশরাফি বিন মুর্তজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা রংপুর রাইডার্স।

সূত্র:kalerkantho


Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.