ব্যাংক না থাকলেও পাওয়া যাবে ব্যাংকিং সেবা

By Unknown রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৬
যে গ্রামে ব্যাংকের কোনও শাখা নেই সেখানেও কিছুদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে ব্যাংকিং সেবা। গ্রাহক ইচ্ছে করলে নিজ গ্রামে বসেই ব্যাংকে জমানো টাকা উঠাতে পারবেন। দরকার হলে ঋণও নিতে পারবেন। আবার সুবিধা মতো ঋণের কিস্তির টাকা জমা দিতে পারবেন। বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সের অর্থও তোলা যাবে। গ্রাহক চাইলে এলাকায় বসেই ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডের আবেদনও করতে পারবেন। বিমার প্রিমিয়াম জমা, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো অতি প্রয়োজনীয় সেবাও গ্রাহক নিতে পারবেন নিজ গ্রামে বসেই। আর এর সবই হবে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে।


জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার গ্রাহকের ঘরের দুয়ারেই আসছে ব্যাংকের সেবা। এরই মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব সেবা দিতে লাইসেন্স নিয়েছে ১২টি ব্যাংক। এর মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে ৬টি। এছাড়া যেসব ব্যাংক এখনও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করেনি তাদের এই সেবা কার্যক্রম চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকের শাখা নেই এমন পল্লী এলাকাগুলোয় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি বিধিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ ৬ জানুয়ারি এক সার্কুলার জারি করে গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে কৃষকের ঋণ পাওয়ার সুবিধার্থে এজেন্ট ব্যাংকিংকে কাজে লাগাতে এর আওতা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এখন থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে কৃষি ও পল্লী ঋণ পাবেন কৃষকরা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যে কৃষি ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেছে- তাতে বলা হয়েছে, এখন থেকে এজেন্টরা ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে পারবে। এছাড়াও দেশের সব বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই তাদের লক্ষ্যমাত্রার ৩০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে নিজস্ব সক্ষমতায়, অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিং বা নিজস্ব শাখার মাধ্যমে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, যে সব ব্যাংকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখা খুলতে গেলে সমস্যা হয়, তারা এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে। বিশেষ করে বিদেশি ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন জায়গায় শাখা খোলায় সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ১শ’ বা ২শ’ এজেন্ট নিয়োগ করা তাদের জন্য কোনও অসুবিধাই নয়। আবার বেসরকারি ব্যাংকগুলোরও গ্রামাঞ্চলে শাখার পরিমাণ কম। তারাও এখন এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান আনিস এ খান বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রতিনিয়ত প্রসার ঘটছে। এর সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে গেছে। এটা আমাদের দেশে আলোড়ন ফেলে দিতে পারে। তিনি বলেন, এ বছরটা আমরা পুরোপুরি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কাজ করলে বুঝতে পারবো এখান থেকে আমরা কতটা সফলতা পাবো।

জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নগদ অর্থ গ্রহণ করতে পারবে গ্রাহক। এক হিসাব থেকে আরেক হিসাবে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। ব্যাংক হিসাবে কত টাকা জমা রয়েছে, তা জানা যাবে। মিনি ব্যাংক বিবরণী তৈরি ও গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে এ সেবার মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সাফল্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে নবতর এই আর্থিক সেবা চালুর উদ্যোগ নেয়।

ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করছে, এমন ব্যক্তিরাই এ সেবার টার্গেট গ্রাহক। প্রথমত, দেশের দুর্গম, পাহাড়ি, প্রত্যন্ত ও কম ঘনবসতি এলাকা, যেখানে ব্যাংকিং সুবিধা এখনও পৌঁছায়নি, কিংবা যেখানে ব্যাংকের শাখা খুললেও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা নেই, ওই সব এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দরিদ্র মানুষকে নির্দিষ্ট এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দেওয়াই হচ্ছে এর লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, শহরের যেসব জনগোষ্ঠী এখনও ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসেনি বা যারা ব্যাংকে ঢুকতে এখনও ভয় পায় বা দ্বিধাবোধ করে তাদেরও নির্দিষ্ট এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা।

এদিকে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ৩৫৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। মার্চ মাসে লেনদেন ছিল ৩৪১ কোটি টাকা। তার আগের মাসে লেনদেন হয় ৩১৪ কোটি টাকা। আর বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২২৫ কোটি টাকা। ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নিয়োগ পাওয়া ৪১৯ জন এজেন্টের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ ব্যক্তি এই অর্থ লেনদেন করেছেন।

লাইসেন্স আছে যে সব ব্যাংকের

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স নেওয়া ব্যাংকগুলো হলো অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্টান্ডার্ড ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক ও মধুমতি ব্যাংক। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এ কার্যক্রম শুরু করেছে। এর বাইরে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও মধুমতি ব্যাংকও এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে।

এজেন্ট হতে পারবে যারা

এজেন্সি পেতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি এক লাখ টাকা জামানত দিতে হবে ব্যাংককে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অুনযায়ী, বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) বা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি নিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান, সমবায় আইন-২০০১ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত সমবায় প্রতিষ্ঠান, ডাকঘর, কোম্পানি আইন- ১৯৯৪ এর আওতায় নিবন্ধিত যে কোনও কোম্পানি, মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর এজেন্ট, ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্র, পল্লী ও শহুরে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় এজেন্ট হওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকিং করতে পারবে। বীমা কোম্পানির প্রতিনিধি, ফার্মেসির মালিক, চেইন শপ, পেট্রোল পাম্প বা গ্যাস স্টেশনের মালিক, এমআরএর অধীনে অনুমোদন পাওয়া এনজিও, কো-অপারেটিভ সোসাইটির অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান। এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা পরিচালনা করতে পারেন এমন শিক্ষিত ব্যক্তিও এজেন্ট হতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে যা করা যাবে না

এজেন্টের মাধমে ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে না। এর জন্য নির্দিষ্ট ব্যাংকের নিকটস্থ কোনও শাখায় যেতে হবে। এজেন্ট কোনও চেক বইও ইস্যু করতে পারবে না। এজেন্ট বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত কোনও লেনদেনও করতে পারবে না।

banglatribune
Jillur Rahman

I'm Jillur Rahman. A full time web designer. I enjoy to make modern template. I love create blogger template and write about web design, blogger. Now I'm working with Themeforest. You can buy our templates from Themeforest.